মন খারাপ—শুধু একটা অনুভূতির নাম নয়, এটা যেন এক অদৃশ্য বেড়াজাল, যা মনকে বিষন্ন করে রাখে, হৃদয়কে ভারী করে তোলে। আমার মন খারাপের সাথে জড়িয়ে আছে কতশত স্মৃতি, কতশত ভাবনা, কতশত না বলা কথা। কিন্তু আমি যদি এই মন খারাপ নিয়ে বসে থাকি, তাহলে কি আসলেই কোনো সমাধান হবে?
আমি যদি মন খারাপ করে থাকি, তাহলে মসজিদে আসা মুসল্লিদের সাথে কী হাসিমুখে কথা বলতে পারব? কেউ কোনো প্রশ্ন করলে, কোনো সমস্যার সমাধান চাইলে, আমি কি সেই আন্তরিকতা দিয়ে উত্তর দিতে পারব, যেটা তাদের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেবে? আমার বয়ানে কি প্রাণ থাকবে? আমার বলা প্রতিটি শব্দ কি মানুষের হৃদয়ে ছুঁয়ে যেতে পারবে? নাকি আমার ভেতরের বিষণ্নতা আমার কথা-বার্তায়ও ছড়িয়ে পড়বে, যা অন্যদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে?
আমি যদি দোকানে বসে থাকি, কাস্টমাররা কি আমার মুখের হাসি দেখতে পাবে? আমার কণ্ঠে কি সেই উষ্ণতা থাকবে, যা তাদের মন ভালো করে দেবে? যদি আমি নিরুত্তর থাকি, বিষণ্ন মুখে কথা বলি, তাহলে কি কেউ আমার সাথে স্বস্তি নিয়ে কথা বলতে পারবে? তারা কি আবারো আমার দোকানে ফিরে আসবে?
এমনকি, যদি আমি নিজে মন খারাপ নিয়ে থাকি, তাহলে কি আমার প্রিয়জনদের মন ভালো থাকবে? আমার চারপাশের মানুষরা কি অজান্তেই আমার এই বিষণ্নতার ভাগীদার হবে না? আমি যদি গুমরে গুমরে থাকি, তাহলে কি আমার কাছের মানুষগুলোও নিরব বেদনায় আক্রান্ত হবে না?
তাই, যখন আমার মন খারাপ হয়, তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করি—আমি কি এই মন খারাপকে বড় করে তুলব? নাকি এটাকে পাশ কাটিয়ে নতুন শক্তিতে সামনে এগিয়ে যাব?
যদি আমি তুচ্ছ কারণে মন খারাপ করে বসে থাকি, তাহলে আমার চারপাশের মানুষগুলোর জন্যও কি আমি এক অদৃশ্য কষ্টের কারণ হয়ে যাব না? আমি কি চাই, আমার মন খারাপের কারণে অন্যের হাসি মলিন হয়ে যাক?
না, আমি তা চাই না। বরং আমি চাই, আমার আশেপাশের সবাই সুখী থাকুক, আনন্দে থাকুক। আমি চাই, আমার মুখের হাসি, আমার কথার উষ্ণতা, আমার ব্যবহার—এসবই যেন অন্যের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
তাই, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি—মন খারাপের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে, আমি আমার মন খারাপের কথা ভুলে যাব। আমি হাসব, আমি সুন্দর করে কথা বলব, আমি ভালো ব্যবহার করব। আমি অন্যদের খুশি দেখেই খুশি হব।
কারণ, মন খারাপ করে বসে থাকলে কিছুই বদলায় না, বরং হাসিমুখে সবকিছুর মুখোমুখি হলে জীবনটা আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।