পৃথিবী এক রহস্যময় সৌন্দর্যের আধার, যেখানে প্রতিটি প্রাণ ক্ষণিকের অতিথি। এখানে আলো-ছায়ার খেলা চলে অনন্তকাল, নদীর ঢেউ কূল ছুঁয়ে ফিরে যায়, বাতাস কানে কানে বলে যায় এক অবিনশ্বর সত্য—আমিও থাকব না, একদিন মিশে যাব শূন্যতায়।
সময়ের স্রোত কখনো থেমে থাকে না। আজ যে সূর্য রক্তিম আভায় উদিত হয়, আগামীকালও তা একইভাবে উঠবে, কিন্তু আমি থাকব না এই আলোয় পথ চলার জন্য। যে আকাশ আজ আমার মুগ্ধ দৃষ্টির সঙ্গী, সে আকাশ একই রয়ে যাবে, অথচ আমার অস্তিত্ব বিলীন হবে এক অনন্ত অন্ধকারে। আমার হাসি, আমার কথামালা, আমার পদচিহ্ন সব মুছে যাবে একদিন ধুলোবালির আস্তরণে।
মানুষ ভাবতে ভালোবাসে যে সে অমর, কিন্তু প্রকৃতি প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় তার ক্ষণস্থায়ীত্বের কথা। আমরা এই পৃথিবীতে এসেছি, হাঁটছি, অনুভব করছি, ভালোবাসার সুর বুনে চলেছি, কিন্তু এই মায়ার বাঁধনও একসময় ছিন্ন হবে। পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে যাবে আমার কণ্ঠস্বর, আমার সান্নিধ্যের উষ্ণতা, আমার ছায়া।
তবে কি আমার অস্তিত্ব একেবারে লুপ্ত হয়ে যাবে? না, আমি আমার কর্মে, আমার ভালোবাসায়, আমার স্মৃতির ছায়ায় থেকে যাব। হয়তো কোনো সন্ধ্যার বিষণ্ন বাতাসে কেউ আমার নাম উচ্চারণ করবে, হয়তো কোনো একাকী মুহূর্তে কারো হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হবে আমার বলা কোনো কথা।
মানুষের প্রকৃত বেঁচে থাকা তার শরীরে নয়, তার কর্মে। আমরা যদি মহৎ কিছু রেখে যেতে পারি, যদি হৃদয়ে ভালোবাসার সুর জাগিয়ে যেতে পারি, তবে আমাদের অনুপস্থিতিও একপ্রকার উপস্থিতি হয়ে থাকবে এই জগতে। তাই, যতদিন আছি, ততদিন ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দেব, সহমর্মিতায় নিজেকে উৎসর্গ করব, কারণ আমি জানি—এই মায়াময়, স্বপ্নিল পৃথিবীতে আমিও একদিন থাকব না... কিন্তু আমার সৃষ্ট ভালোবাসা, আমার কর্মের গৌরব, আমার হৃদয়ের উষ্ণতা থেকে যাবে অনন্তকাল।